সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

পথে যেতে যেতে : পথচারী

  • আপলোড সময় : ১৭-১১-২০২৫ ১১:৩২:৪৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৭-১১-২০২৫ ১১:৩২:৪৪ অপরাহ্ন
পথে যেতে যেতে : পথচারী
সুনামগঞ্জ বাংলাদেশের একটি প্রান্তিক জেলা। অথচ এখানেই জন্ম অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির। এই বিখ্যাত ব্যক্তিদের ভিড়ে আরও অনেক প্রতিভা লুকিয়ে আছে, যাদের সম্পর্কে আমরা খোঁজ-খবর রাখি না। তাদের একজন ভাস্কর জালাল উদ্দিন সরকার। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মজুমদারিতে ১৯৮৫ সালের ১০ অক্টোবর তাঁর জন্ম। খুব সাধারণ একটি পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই শিল্পীর। ‘স্বশিক্ষিত’ এই জালাল উদ্দিন সরকার ছোটবেলা থেকেই জ্ঞানের অন্বেষণ করতেন প্রকৃতি থেকে। যেহেতু প্রান্তিক ছোট জেলা সুনামগঞ্জ, তাই এখানে সীমিত সুযোগ-সুবিধা। এর ভেতরেই জালাল উদ্দিন সরকার খুঁজে বেড়ান তাঁর শিল্পের উপাদান। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তেমন পাননি তিনি। এর মধ্যেই ব্যক্তি চেতনায় প্রস্ফুটিত করেছেন তাঁর প্রতিভা। ভাস্কর্য তৈরির পাশাপাশি জালাল সরকার জীবনের শুরুতে টুকটাক কবিতা লিখলেও ছবি আঁকার প্রতি ছিল তার প্রচ- ঝোঁক। কাগজ-কলম হাতের কাছে পেলেই এঁকে ফেলতেন একটি ছবি। যেখানেই চোখ পড়ত কোনো শিল্পকর্মে, তার দিকে চেয়ে থাকতেন শিল্পী জালাল। শিল্পকর্ম কাছে টানতো তাঁকে। একদিন স’মিলে গিয়ে গাছের শিকড় দেখে তাঁর মনে হলো এটি একটি জীবন্ত শিল্প। গাছের শিকড় জ্বালানীর জন্যই পড়ে থাকে। কিন্তু জালাল সরকার এই শিকড়ের ভেতরেই দেখতে পেলেন একটি জীবন। তার শিল্প ভাবনা জেগে ওঠে সেখানেই। কেবল প্রয়োজন একটু ঘষা-মাজা। এভাবেই শুরু হল তার শিল্প ভাবনা। ভাস্কর হিসেবে আত্মপ্রকাশের পাশাপাশি তার আরও ঝোঁক দেখা যায় ছবি আঁকার প্রতি। ইতোমধ্যেই তিনি বেশ কিছু গ্রন্থের প্রচ্ছদ অঙ্কন করেছেন। বিশেষ করে শিশুতোষ বইয়ের প্রচ্ছদ এঁকে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছেন। কিছু গান লিখেছেন তাতে নিজেই সুরও দিয়েছেন। নাট্যকার হিসেবেও তার বেশ পরিচিতি রয়েছে। এক সময় অভিনয়ও করেছেন। সবকিছুকে ছাপিয়ে জালাল উদ্দিন সরকার হয়ে উঠেছেন একজন ‘ভাস্কর’ হিসেবে। অনেক স্বাভাবিক পেশার বাইরে তাকে টেনে আনল একজন ভাস্করের দিকে। জালাল উদ্দিন সরকারের পরিবার একটি সাধারণ পরিবার। বাবা তমিজ উদ্দিন সরকার, মাতা মালেকা বেগম। শিল্পীর প্রাথমিক শিক্ষার শুরু স্থানীয় লালারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর জীবনে প্রিয় মানুষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা তাঁকে অনুপ্রাণিত করতো। নজরুলের রচনা সুযোগ পেলেই পড়তেন। তবে ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়ার তার অধ্যয়নের বিষয়। সেই স’মিল থেকে সংগৃহীত গাছের শিকড় দিয়ে তিনি তৈরি করেছিলেন জীবনের প্রথম ভাস্কর্য ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’। মজার ব্যাপার হলো সেই ভাস্কর্য ক্রয় করেছিলেন সিলেটের জনপ্রিয় মেয়র প্রয়াত বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। এরপর আরও শিল্পকর্ম সুধীজনরা পছন্দ করে ক্রয় করেছেন। তার সৃষ্ট শিল্পকর্মের একাধিক প্রদর্শনী হয়েছে সিলেট ও রাজধানী ঢাকায়। এগুলোর কোনটি একক এবং কোনটি দলীয়। সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত ত্রয়োদশ চারুকলা প্রদর্শনী ২০১০-তে তার শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়। ঢাকাস্থ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ১৫তম দ্বি-বার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী ২০১২ ও ১৬তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী ২০১৪-তে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এছাড়া সিলেট শহীদ মিনারে ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত হয় একক শিল্প প্রদর্শনী। যার নামকরণ করা হয়েছিল ‘পরাণে প্রশান্তি’। প্রতিটি প্রদর্শনীই তাঁকে সুখ্যাতি এনে দেয়। দর্শকগণ প্রদর্শনীর ভূয়শী প্রশংসা করেছেন। এই শিল্পী তার সৃষ্টির স্বীকৃতি স্বরূপ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন, যেমন- কামরুল হাসান পুরস্কার ২০১০, সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার এবং অশোক বিজয় রাহা পুরস্কার ২০১২, জেলা পরিষদ, সিলেট। চারুশিল্প নিয়ে ভাস্কর জালাল সরকার অনেক দূর যেতে চান। শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে সিলেটে বসবাস করলেও বর্তমানে সুনামগঞ্জে নিজ পিত্রালয়ে বসবাস করছেন। এ সকল পেশায় প্রকৃত অর্থে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। শিল্পীর তা নেই। তাই অন্নের তাগিদে এর বাইরে গিয়ে নানাবিধ কাজ করতে হয়। এতে শিল্পীর মূল কাজ বিঘিœত হয়। ভাস্কর্য এমন একটি শিল্প, যার ভাষা নিজস্ব। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভাস্কর্য শিল্পের চর্চা হতে দেখা যায়। প্রাপ্ত তথ্য মতে, মিশরে সবচেয়ে বেশি এমন শিল্পচর্চার কাজ হয়ে থাকে। এর বাইরে জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ফ্রান্সসহ ইউরোপের অনেক দেশেই ভাস্কর্য শিল্পের চর্চা রয়েছে। সুনামগঞ্জের ভাস্কর জালাল উদ্দিন সরকার আমাদের গর্ব। এই প্রতিভাধর শিল্পীকে আমাদের সার্বিক প্রণোদনা দেওয়া আবশ্যক।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স